"ভেজা চোখ„...👁🥺👁🥰পার্ট-১

"ভেজা চোখ„...👁🥺👁🥰
দিনের শেষ বিকেলের মিষ্টি আলোটুকু নিভে প্রতিদিনের ন্যায় সন্ধ্যে ঘনিয়ে এলো। দিনটা ছিলো ৮ জুন মঙ্গলবার। চারিধার অন্ধকারে ঢেকে গেলো।রুমের কৃতিম আলোগুলো জ্বলে উঠলো, রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট গুলো জ্বলে উঠলো আবার কোথাও কোথাও অন্ধকারাচ্ছন্ন ও রয়ে গেলো। কিন্তুু আকাশ টা...?

রাতের দূর আকাশে মিটিমিটি তাঁরাগুলো জ্বলজ্বল করেছিলো।হালকা মৃদু দক্ষিনের হাওয়া বইছিলো বাহিরে। চাঁদ এর দেখা তখনো মেলেনি। তবে বেশ ভালো লেগেছিলো রাতের আকাশে তাঁরাগুলো দেখতে, আর মৃদু হাওয়া গায়ে লাগিয়ে নিরব মনে চুপচাপ বসে থাকতে। আমি প্রায়ই রাতের আকাশ দেখি। তবে হঠাৎ...!

রুম থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে, নেট অন করলাম বাড়ী কল দেওয়ার জন্য। যা আমার প্রতিদিনই করতে হয়। বলতে পারেন দিনের রুটিন এর একটা অংশ। কারণ...

পরিবার থেকে একটু দূরেই থাকি, জীবন & জীবিকার প্রয়োজনে। নিজের ভালোর জন্য, আর পরিবারের সুখের জন্য, এ দূরে থাকটা মেনে নেওয়া।।

আচ্ছা এবার যে কথা বললো সে কথাটাই তো শুরু করা হলো না এখনো...!

• এবার তাহলে শুরু করা যাক...✍

ফোনের নেট অন করতেই যে সাউন্ড Heart স্পর্শ করে। হ্যাঁ ফোনে ছোট মিষ্টি আপির কল এর sound. সময়টা ছিলো সন্ধ্যা ৭:২৯।

so, কল রিসিভ করে...

কথার শুরুটা হয়েছিলো বেশ সাদামাটা, অনন্য দিনে যেভাবে কথা বলে থাকি দু,ভাই -বোন। মিষ্টি কথা আর কতো হাসাহাসি আর শত অভিযোগ এর কাঠগড়ায় দাড় করা দু,জন দু,জনকে।

এ যেন সৃষ্টিকর্তা আপন মায়ায় বেঁধে দিয়েছেন।জি, আমার মিষ্টি-দুষ্ট বোন এর কথাই বলছি।

"বোনকে ছেড়ে বিদেশে পড়ি জমিয়েছি ৩.৫ টি বছর,
আজ কেন জানি দু,চোঁখ দিয়ে ঝড়েছে অঝোর শ্রাবন„।😭

#মা-বোন দু,জন হবে।। বাবা আমি একসাথে থাকি,তবে সে,তো বাড়ী গিয়েছে আমি আসার পর ৩বার। আর এইদিকে আমি...😔

• তবে যাক সে কথা বাদ দেই, আবার কথায় ফিরে আসি...

তবে আমাদের কথার মাঝে এমনি আবার অনেক অনেক কথা নিয়ে আলোচানা করা হয় যেমন, তেমনি জীবন, জীবনের মানে, ভালোবাসা, বন্ধন ও পরিবারের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ও ঢের কথা বলি দু,জন।

তেমনি কথার মাঝে আজ মাএ ৭মিনিট কথা বলার পর হঠাৎ যেন দু,ভাই-বোন কোথায় হারিয়ে গেলাম...?

না কোনো সপ্নপুরীর রাজ্যে নয়!! নয় কোন সপ্নলোকে!!কিন্তুু তাহলে কোথায় হারালাম...???

তবে বলি এবার, কিছুক্ষণ কথা বলার পর কেন জানি দু,ভাই-বোনা এর জীবনের ফ্লাশব্যাক এ চলে গেলাম। একটু সৃতির গভীরে যাকে যাওয়া বলে।

• তবে এবার কথার সূএ ধরেই একটু একটু এগোনো যাক......

আপি - তুই কেমন আছো?

ভাই - জি, আলহামদুলিল্লাহ্‌ মোটামুটি ভালো। আপনি? আপি আমার ছোট হলেও আমি তাকে আপনি বলি।

আপি - জি, ভাইয়ু এর সাথে কথা বললে আমি সবসময়ই ভালো থাকি।

ভাই - ও আচ্ছা আচ্ছা, কি করেন আপনি?

আপি - এইতো ভাইয়ু এর সাথে কথা বলি। হা হা হা..

ভাই - আচ্ছা আর হা হা করতে হবে না। এবার কি বলবেন বলেন?

অপি -ও আচ্ছা ভালো কথা, ভাইয়ু জুন মাস নিয়ে তোর কিছু মনে আছে কি ?

ভাই - জি, মনে আছো তো আপি আপনার জন্মদিন রয়েছে এ মাসে।

আপি- আচ্ছা তাহলে মনে রেখছো .?

ভাই- জি, মনে তো রেখেছি। তবে একটু শোরগোল পাকিয়ে ফেলি দিন তারিখ নিয়ে!

আপি - তুই তো তা বললিই!

ভাই - কিন্তুু কেন?

আপি - লাস্ট জন্মদিন কে জানি উইশ করেছে ১ দিন পর। হা হা হা...

ভাই - জি, আমি করেছি। কারণ আপনি বড় আপুদের বাসায় ছিলেন আর তখন আপনার কাছে ফোন ছিলে না। কারণ বাসায় ফোন মা এর কাছে। আর এখন তো আপনার ফোন আছে!!

আপি - থাক, বাদ দেই এ প্রসঙ্গ! তার থেকে বল এবার কি দিবি?

ভাই - আমি তো দূরে তাহলে কিভাবে দিবো কিছু কিনে ,যাদের দিয়ে কিছু দিবো বলে ভাবি।তাদের সাথে তো ইদানীং কথাই হয় না প্রায়। ((আমার প্রিয় ভাই একটা অন্যজন আমার একটা প্রিয় বন্ধু))

আপি - আমি জানি না, তুই কিভাবে দিবি তুই জানো।

ভাই - আচ্ছা ঠিক আছে দেখি কি করা যায়।

আপি - এখনই কুরিয়ার এ পাঠিয়ে দে, জন্মদিন আসতে আসতে হাতে পেয়ে যাবো। হা হা হা...

ভাই - এ তো ভেবে দেখেনি, বেশ ভালো অইডিয়া জানেন তো আপনি।

আপি - থাক, ভাই কিছু লাগবে না তোর দেওয়া।মনে রাখলেই হলো। মেয়ে বলে কেউ কিছু মনে রাখতে চায় না পরিবার বা অন্যরা ! আমি তোর বোন না হয়ে ভাই হলে সবাই সব মনে রাখতো !

ভাই - কেন, এটা কোন কথা বললি।না আমার ভাই চাইনা। আমার আপনি ই ভালো, কত্ত ভালো একটা আপি আমার। আপনাকে আমি ভীষণ ভীষন ভীষন রকম ভালোবাসি আপি। আমার প্রানের চেয়েও বেশী। বলতে গিয়ে চোখেঁর জ্বল টলমল করে উঠে চোখেঁর কোণ গড়িয়ে পড়ছে তখন...

আপি - আমি জানি ভাইয়ু তুই আমায় কত্ত ভালোবাসো।আর ওড়না দিয়ে চোখেঁর জল ঢেকে রাখার চেষ্টা।

ভাই - আচ্ছা কি যেন বলবেন আপি তা শুনি এবার..

আপি - ও থাক হইছে, তোর জন্মদিন তো সবাই স্বর্ণ অক্ষরে পারলে লিখ রাখতো।স্পেশালি মা সব মনে রেখেছে ছেলের সবকিছু, বাবা ডাইরিতে লিখে রেখেছে।আর চাচা তো আর্ট করে লিখে রেখেছে বছর,মাস,দিন,সময়! সময় টা ও সেট আপ।

ভাই - দেখ মন খারাপ করিস নে, আমি তো তখন ক্লাস সিক্স এ পড়ি, হোস্টেল এ থাকি, তাও আবার খুলনা।আর তখন তো আমায় হোস্টেল এর টেলিফোনে কল দিয়ে শুধু বললো তোর বোন হয়েছে। তখন মনে মনে অনেক খুশি হয়েছিলাম, আর রুমমেট সবাইকে বললাম আমার বোন হয়েছে।ভাই তো তখন মনে করে লিখে রাখতে পারিনি ছোট তো!

আপি - আচ্ছা ঠিক আছে তবে আর মন খারাপ করলাম না। তবে...

ভাই - কি??

আপি - তোর কি কি মনে আছে আর আমার কথা?

ভাই - অনেক কথাই তো মনে আছে, কারণ আপনার কাছাকাছি বেশী থাকতে পারিনি পড়াশুনার জন্য দূরে দূরে থাকতে হয়েছে বছরের বেশী সময়। তবে যেটুকু সময় থেকেছি সে সময়ের বেশীরভাগ সময় আপনি আমার কাছেকাছে,পিছুপিছু থাকতেন!

আপি - আর কি করতাম?

ভাই - যখন খুব ছোট, তখন বেশীরভাগ সময় আপনাকে কাঁধে নিয়ে হাঁটতাম,তবে আপনি চুল কামড়ে দিতেন না হলে চুল টেনে ধরতেম আবার মাঝেমধ্যে কান ধরে বসে থাকতেন কাঁধে।

আপি - হা হা হা... আর?

ভাই - বাড়ী থাকলে আপনি ছোট থাকতে সবথেকে বেশী যে কাজটা করা লাগতো, তা হলো আপনাকে গোসল করিয়ে কোলে করে ঘরে নিয়ে গিয়ে, গায়ে তেল বা লোশন দিয়ে জামা পড়িয়ে দিতে হতো।

আপি - আচ্ছা বেশ ভালোই তো তুই আমার যত্ন নিতি.... আর?

ভাই - ও হ্যাঁ আরো একটা কাজ করতে হতো, খাবার খাওয়াতে হতো।কারণ আপনি সবজি বা অন্য তরকারি খেতে চাইতেন না মাছ আর মাংস ছাড়া।তবে আমি আপনাকে শাক, ডিম আর আন্য তরকারি দিয়ে বসে বসে ভাত খাইয়ে দিতাম।অনেক সময় লাগতো আপনাকে খাওয়াতে বসলে।আর আমি বাড়ী থাকতে এটা করতেই হতো প্রায়সময়। মা, শুধু বলতো তোর বোন খাবার খাবে না বলছে, ব্যস তারপর আমার কাজ...!! হা হা হা

আপি - তুই তো এ রকম ই ছিলি ভাইয়ু। মা আমায় বলছে অল্প অল্প করে তোর কথা নিয়েই তো বেশী আলাপচারীতা হয় আমাদের ঘরে!

ভাই - যা ভালো, আমি তো একটু অন্য রকম! সেকেলে টাইপ এর...!!! হা হা হা...

আপি - না তুই মোটেও তা না, একদম অন্যরকম সবার থেকে আলাদা। যে ভাই আমাকে অনেক অনেক সময় দেয়। কেমন আছো, কি করো, খয়েছো কি না এ সব বলেই তো সবাই কথা শেষ করে দেয়। কিন্তুু তুই আমায় কতো কিছু শিখিয়ে দিচ্ছো প্রতিনিয়ত জীবন সম্পর্কে। আর এজন্যই তুই আমার সেরা ভাইয়ু....

ভাই - হইছে থাক আর প্রশংসা করতে হবে না। তবে কি বলি এবার...

আপি - হ্যাঁ, বল? আর কি কি মনে আছে?

ভাই - ও যখন হাটি হাটি পা পা করে বড়ো হয়ে, নার্সারি তে যাওয়া শুরু করলি।তখন মা, বাবা তোকে দিয়ে আসতো স্কুলে। তবে আমিও মাঝে মাঝে দিয়ে আসতাম নিয়ে আসতাম।আর যখন টু -থ্রী,ফোর, ফাইভ, সিক্স এ পরো তখন ও বাড়ী থাকলে স্কুলের ব্যাগ আমি নিয়ে আসতাম মাঝে মাঝে।আবার মা কে রেখে তোকে নিয়ে বেড়াতে যেতে হতো আবার বেড়ানো শেষ হলে সাথে করে নিয়ে আসতাম বাড়ীতে।

আপি - হ্যাঁ, আমার মনে আছে ভাইয়ু। তবে আমার দূরে ঘুরতে নিয়ে গিয়েছো কম?

ভাই - হ্যাঁ, একদিন ঢাক শহীদ মিনার এ নিয়ে গিয়েছিলাম ২১শে ফেব্রুআরি, আর ঢাক ভার্সিটির এক আপু তোর গালে পতাকা একে ২০ টাকা চাইলো, দিয়েছিলাম টাকা। আর শিশুপার্ক এ গিয়েছিলাম একদিন। তবে তখন তো আমি স্টুডেন্ট আমার টাকা ছিলো না,আমিই তো বাবা এর কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলতাম।তাই বেশী ঘুরতে পারিনি।

আপি - হু, ঠিক ! তবে এবার বাড়ী আসলে ভাইয়ু তোর শার্ট এর কলার ধরে রাখমু, যেখানে যাবি তুই আমিও সেখানে সেখানে যাবো।

ভাই - আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে, যেখানে যেখানে যাবো এবার সাথে সাথে নিয়ে যাবে।

আপি - হু, মনে থাকে যেন সব কথা...?

ভাই - জি, ১০০ বার মনে থাকবে আপি।।

আপি - আর কি মনে আছে..?

ভাই - আপনার জন্য একটা জামা কিনে নিয়ে এসেছিলাম খুলনা থেকে, সল টা আনুমানিক ২০১৪ হবে ক্লাস ফোরে তখন পরেন আপনি। আপনার জন্য সর্বপ্রথম কেনা কোন জিনিস আমার, তাবে ঈদের জামা ছিলো।আপনার ও বেশ পছন্দ হয়েছিলো জামাটা।

আপি - হু, আমার মনে আছে ভাইয়ু। জামা পেস্ট কালার ছিলো আর খুব সুন্দর ও।।সবকিছু মনে রাখছো তো তুই দেখছি ভাইয়ু। মিষ্টি একটা হাসি অনেকসময় পর।🥰

ভাই -জি, মনে তো আছে প্রায় সবকিছুই । তবে একটা কথা কিছুতেই মন থেকে সরাতে পারছি না আপি!

আপি - কি কথা??

ভাই - ক্লাস টু বা থ্রি তে পড়ো মনে হয় সে সময় একদিন তোকে একটা লাঠি দিয়ে ৩-৪ টা বারি মেরেছিলাম খুব জোরে, লাঠিটা ভেঙ্গে গিয়েছিলো, আর আপনার হাতের আঙ্গুল এ লেগেছিলো একটা বারি, খুব ব্যথা পয়েছিলেন মনে হয়। কান্না করছিলেন আর বলছিলেন আমি এখন থেকে মা এর সব কথা শুনবো। কিন্তুু কেন যে আপনাকে মারতে গেলাম, আসলে আম্মা কি যেন বলেছিলো আপনি তার কথা শোনেন নেই, তাই এমন করেছিলাম।বলতে গিয়েই আবার ভীষন রকমের কান্না শুরু।😭

আপি - হ্যাঁ, আমার ও মনে আছে। তবে আর তো কখনোই মারো নাই তুই। যে ভাইয়ু আমায় এত্তো ভালেবাসে, সে তো একটু-অধটু শাসন করতেই পারো।

ভাই - হ্যাঁ, তবে ঘরে যাওয়ার পর দাদী আমায় মেরেছিলো, আপনাকে মেরেছি বলে। আর মা অবশ্য রাতে বকাবকি করেছিলো কেন আপনাকে আমি বেশী মেরেছি তাই,কারণ আপনার আঙ্গুল টা ফুলে গিয়েছিলো যে। মা বলছে আর কোনদিন যেন আপমার গায়ে হাত না দেই। আপি আমি বুঝতে পারিনি তখন সরি রে..🥺

আপি - ভাইয়ু আমি জানি, তুই আমায় কত্ত ভালোবাসো,তাহলে শাসন তো একটু করবিই! আপির চোখেঁর কোনে ও টলমল করছে জল..🥺 শেষমেশ ফুঁপিয়ে ফুপিয়ে কান্নাই শুরু করে দিলো অঝোরে.. 😭

ভাই - কি হঠাৎ ভাইয়ের কথা এতো বেশী মনে পড়ে গেলো কেন!😭

আপি - কাই না তো কিছু না ! ওড়না দিয়ে চোঁখ মুছতে মুছতে। 😢

ভাই - লুকাস না আমার কাছে তাই না.. ??

আপি - না তোর কথা তো প্রতিদিনই মনে পরে,তবে আজ একটু বেশীই মনে পরে গেলো। আর আবার দু,হাত দিয়ে মুখ লুকিয়ে কান্না। ঝড়সরো কন্ঠে আর...!

ভাই - আর কি... ???

আপি - কতোদিন আমার ভাইয়ু কে কাছ থেকে দেখি না!!! এবার তো আর অঝরো কান্না থামছে না।😭

ভাই - আরে কান্না করিস না, আর এখন আমাদের দু,জনেরই কথা না বলে চুপ থাকা উচিৎ। কারণ আমরা দু,জনে একটু বেশীই ইমোশনাল হয়ে গিয়েছি কথা বলতে বলতে।আর চোখঁ এর কোণ গড়িয়ে জল পরছে তো পরছেই এবার। 😭

আপি - হ্যাঁ, বলে চুপ করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না,আর ওড়না দিয়ে চোখেঁর জল মুছে যাওয়া।😭

ভাই - আচ্ছা, আপি মন খারাপ করিয়েন না, এবার যান গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে আর চোখেঁর জল যেন না দেখি, হাত -মুখ ধুয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিন, ভাইয়ু আবার পরে কল দিচ্ছি।

আপি - আচ্ছা, যাচ্ছি ঠিক আছে... কান্না যেন কিছুতেই থামছে না, শুধু ওড়না দিয়ে চোঁখ মুছে যাচ্ছে তো যাচ্ছে...😭

ভাই - কল কেটে ১মিনিট পর আবার কল,কই যাও নাই?

আপি - কান্না গলায় যাচ্ছি..🥺

ভাই - এখনি যাবেন আর চোঁখে জল কেন এখনো?

আপি - কই না তো, তবে যাচ্ছি এবার!😒

ভাই - ওকে,ভাইয়ু আবার কল দিবো কেমন।

আপি - ওকে।


• তারপর ,কিছুসময় নেট অফ রাখলাম,যেন আবার কল দিয়ে তাতে করে আরো বেশী কান্না জুড়ে না দেই দু,ভাই -বোন।। তবে চুপ করে শুয়ে শুয়ে কথোপকথন টা নোট করে রেখে দিতে ইচ্ছে হলো খুব করে...

তাই শুরু করে দিলাম লেখা, আর নাম দিলাম.✍

"ভেজা চোঁখ „👁🥺👁🥰

তবে কথা কিন্তুু শেষ হলো কই.? এখনো যে শেষের পূর্ণতা বাকী...

তাহলে, এবার শেষ করা যাক সংক্ষপে।

• আবার নেট করলাম আনুমানিক রাত ৯:১৯, দেখি মা এর কল আর, আপি এর কল।
তখন আপি কে আগে কল দিয়ে বললাম খাওয়া হয়েছি কি? বলে জি ভাইয়ু।। সঙ্গে মিষ্টি একটা প্রাণজুড়ানো হাসি। তখন আবার ও মা কল দিয়ে বসলো। আপি কে বললাম মা এর সাথে কথা বলে কল ব্যাক করছি কেমন? বললো ওকে ভাইয়ু...

আমি - মা, কল দিয়েছিলেন।

মা - হ্যাঁ দিয়েছি তো ।কি হলো তোদের? তোর বোন তো অনেক কান্না করলো, খাতে বসে আর খেতে ও পারেনি ঠিক মতো।

আমি - মা, আমার কথা নাকি বেশী মনে পরে গিয়েছে আর ছোট বেলার কথা বলছিলাম তো তাই।

মা - ও আচ্ছা, বড় হয়েছে তো এখন একটু কম কথা বলবি। কারণ... দূরে থাকো তো। আবার মায় লাগবে বেশী আবার কান্নাকাটি করবে।

আমি - ও আচ্ছা মা ঠিক আছে, তবে জানিনা পারবো কিনা তবে,চেষ্টা করবো। আর রাখছি হ্যাঁ আল্লাহ্‌ হাফেজ

মা - আল্লাহ্‌ হাফেজ।

• এবার আবার আপির কাছে কল...
ভাই - কি, আপনি কন্না থামাতে পারেন নি না।

আপি- মিষ্টি হেসে না...

ভাই - আচ্ছা হইছে এবার..

আপি - ভাইয়ু মা বলছে তাই না,

ভাই - জি

আপি - ভাইয়ু ভাত খেতে গিয়ে তো, শুধু কান্না আর প্লেট এ হাত ঘুরানো দেখে মা কল দিয়েছে আর আল্প খেয়ে বাবা কে জড়িয়ে ধরে কান্না করছি। বাবা বলতেছে... থাক মা, কান্না করিস না, ভাই তো আমাদের সবার জন্য দূরে। আর আমি গেলে তোর ভাই তো দেশে আসবে।আর কতোশতো বুঝানো। শেষমেশ কান্না থামলো।

ভাই - ওরে, আমার মিষ্টি আপি। এবার অনেক হলো, তো ভাইয়ু এর জন্য সবসময় দোয়া করবে যেন সর্বদা সৎ পাথে চলতে পারি, আর সৎ ভাবে বেঁচে থাকতে পারি।

আপি - মিষ্টি হেসে আমার সেরা ভাইয়ু এর জন্য সবসময় আমার দোয়া ও শুভ কামনা আছে আর,থাকবেে ও সারাজীবন ।☺🍀

ভাই - তাহলে, আজকের কথা এখানে শেষ করছি।সৃতির মালায় গেঁথে রাখার মতো একটা দিন। অবেগী দিন।মনে থাকবে জীবনে অন্তিম মূহর্তে ও।

আপি - হু, ভাইয়ু আজ কতো তারিখ ? বলেই মিষ্টি প্রাণবন্ত হাসি।। হা হা হা😁

ভাই - আজ ৮ ই জুন ২০২১ 😁

আপি - ক্যালেন্ডার এর একটি পাতায় একটা গোল দিয়ে রাখলাম।

ভাই - হা হা হা, তবে এবার আপনার আগামীর সুন্দর দিনের প্রত্যাশায় থাকলাম আপি।
শুভরাএি
মিষ্টি হেসে☺
আল্লাহ্‌ হাফেজ।

আপি - আল্লাহ্‌ হাফেজ।☺

"বর যেন আমাদের দু,ভাই - বোনের এ ভালোবাসার বন্ধন অজীবনের জন্য অটুটু রাখেন„
• কথা বলতে বলতে অনেক রাত হয়ে গেলো,অনেক কথা বাদ ও রয়ে গেলো। তবে বাকী কথা অন্য কোন একদিন লিখবো অন্যভাবে ।✍

তো এবার,রুম ছেড়ে বাহিরে এসে এবার দেখি চাঁদ হাসছে,আর তারাগুলো আরো বেশী উজ্জল হয়ে জ্বলজ্বল করছে। তবে মৃদু হাওয়াটা একটু কমে গিয়েছে। একটা প্রশান্তির নিঃশ্বাস নিলাম আকাশের দিকে তাকিয়ে।

মিষ্টি আপির হাসিটা যেন, চাঁদের সাথে মিশে রয়েছে...আর তারাগুলো সে হাসিখুশি মুখখানি পাহার দিচ্ছে।।🥰

আপি ভালোবাসি অনেক বেশী,প্রানের চেয়েও বেশী স্নেহ করি, তোকে।😁😁 ও না আপনাকে।🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰

(সংক্ষিপ্ত) ✍
"ভেজা চোঁখ„...পার্ট-১
উৎসর্গঃ তামান্না আক্তার (রোজী)
আমার স্নেহধন্য ছোট বোন।।

"ধৈর্য আমাদের খারাপ সময়গুলোকে ভালো করে দেয়„

ছবি:- আমার তোলা ফটোগ্রাফি।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ